শূন্যের আবিষ্কার মানব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রাচীনকাল থেকে এর ধারণা প্রচলিত থাকলেও শূন্যকে একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে ভারতীয় গণিতবিদদের অবদান অনস্বীকার্য। শূন্যের প্রাচীন ধারণা শূন্যের ধারণাটি বিভিন্ন সভ্যতায় ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০-৫০০০ বছর আগে সুমেরীয়রা গণনার জন্য 'খালি জায়গা' বা স্থাননির্দেশক হিসেবে শূন্যের ধারণা ব্যবহার করত। ব্যাবিলনীয়রা এই ধারণাকে আরও উন্নত করে দুটি কোণাকৃতির চিহ্ন (<<) ব্যবহার করত, কিন্তু এটি একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা ছিল না। মায়া সভ্যতা: প্রায় ৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মায়ানরা তাদের ক্যালেন্ডারে শূন্যকে একটি প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করত। ভারতীয়দের অবদান গণিতের ইতিহাসে শূন্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব প্রধানত ভারতীয় গণিতবিদদের। আর্যভট্ট: ভারতীয় গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট (৪৭৫-৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ) প্রথম শূন্যের ধারণা দেন। যদিও তার সময়ে এটি একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা হিসেবে স্বীকৃত ছিল না, তবে তিনি এর গুরুত্ব তুলে ধরেছি...
প্রাচীন সভ্যতায় বীজগণিতের সূচনা বীজগণিতের মূল ধারণাগুলো প্রাচীন মিশরীয় এবং বাবিলনীয় সভ্যতায় পাওয়া যায়। প্রায় ৪০০০ বছর আগে বাবিলনীয়রা দ্বিঘাত সমীকরণ (quadratic equations) সমাধানের জন্য বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করত। তাদের পাটিগণিত ও জ্যামিতির সমস্যা সমাধানে এক অজ্ঞাত রাশি (unknown quantity) বের করার প্রচেষ্টা থেকেই বীজগণিতের বীজ বপন হয়। অন্যদিকে, প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের জমির পরিমাপ, কর গণনা এবং নির্মাণকাজে বীজগাণিতিক সূত্র ব্যবহার করত। তাদের 'আহমেস প্যাপিরাস'-এ (Ahmes Papyrus) এমন অনেক গাণিতিক সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। গ্রিক ও ভারতীয় গণিতবিদদের অবদান গ্রিক গণিতবিদরাও জ্যামিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বীজগণিত নিয়ে কাজ করেছেন। ইউক্লিড (Euclid) এবং ডায়োফ্যান্টাস (Diophantus)-এর মতো গণিতবিদরা জ্যামিতি ও বীজগণিতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। ডায়োফ্যান্টাসের 'অ্যারিথমেটিকা' (Arithmetica) বইটি বীজগাণিতিক সমীকরণ সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যা পরবর্তীতে 'ডায়োফ্যান্টাইন ইকুয়েশন' (Diophantine equations) নামে পরিচিতি পায়। তবে বীজগণিতকে একটি স্বতন্ত্র এবং সুসংগঠ...